ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাল্যবিবাহ বন্ধ ও সমান সুযোগের দাবিতে ঢাকায় কন্যা শিশুদের সংলাপ

অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কন্যা শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-২-এর আলোক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংলাপে এসব দাবি জানান বক্তা ও অংশগ্রহণকারী কন্যা শিশুরা।

‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করি, কন্যা শিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’—জাতিসংঘের এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ (এমজেএফ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার জরিপ তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৭.২ শতাংশেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এবং ১৩.৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা সমাপ্তির হার ৯১.৩ শতাংশ হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে তা কমে মাত্র ৪১.১ শতাংশে নেমে আসে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রান্তিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কন্যা শিশুদের নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। সেরাক বাংলাদেশের সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘শিক্ষার সুযোগ ছাড়া মেয়েদের পক্ষে স্বাধীনভাবে ও সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।’

‘মায়ের আঁচল’-এর সাদিয়া আক্তার ইভা অভিযোগ করে বলে, বিদ্যালয়ে খেলাধুলার ক্ষেত্রে ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি সময় ও সুযোগ-সুবিধা পায়।

বিআইএসসির শিক্ষার্থী তাসনিম ফেরদৌসী প্রশ্ন তোলে, ‘মানসিকভাবে পরিণত না হওয়া ১৬ বা ১৭ বছরের একটি মেয়ের ওপর কীভাবে সংসার পরিচালনা ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়?’

উখাইনু মারমা ঋতুস্রাব নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার, জাতিগত বৈষম্য এবং মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের বিষয়টি সামনে আনে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোরী আয়েশা আক্তার ব্রেইল ও অডিও শিক্ষাসামগ্রীসহ প্রতিবন্ধী কন্যা শিশুদের উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলে, ‘আমাদের করুণা নয়, প্রয়োজন সমান অধিকার ও সুযোগ।’

এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী ওয়াদিফা রহমান অপ্সরা মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো ও বাল্যবিবাহ কমাতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানায়।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “শুধু ‘কন্যারা বিশ্ব জয় করবে’ বললেই হবে না। কীভাবে তারা বিশ্ব জয় করবে, সেই সুযোগ আমরা কীভাবে তৈরি করছি—তা নিয়েও ভাবতে হবে। বাল্যবিবাহ কন্যা শিশুর মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’

তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইন বাস্তবায়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমজেএফের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক লাইসা মাহমুদ হেমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তিয়াশা ঈদরাক এবং সংলাপে সঞ্চালনা করেন এমজেএফের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার নুসরাত ফাতিমা।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর (ইনফ্লুয়েন্সিং ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) নিশাত সুলতানা এবং সেরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত।

সমাপনী বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের লিড (ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেসন) ওয়াদিউর রহমান তন্ময় অংশগ্রহণকারী কন্যা শিশু ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান। কেবল সচেতনতামূলক প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে কন্যা শিশুদের সব ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।

বাল্যবিবাহ বন্ধ ও সমান সুযোগের দাবিতে ঢাকায় কন্যা শিশুদের সংলাপ

প্রকাশের সময় : ০৫:৫২:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন ডেস্কঃ বাংলাদেশে বাল্যবিবাহ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ এবং কন্যা শিশুদের শিক্ষা, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্যসেবা ও সমান সুযোগ নিশ্চিত করার জোর দাবি জানানো হয়েছে।

আন্তর্জাতিক কন্যা শিশু দিবস উপলক্ষে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাজধানীর মিরপুর-২-এর আলোক অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক সংলাপে এসব দাবি জানান বক্তা ও অংশগ্রহণকারী কন্যা শিশুরা।

‘বাল্যবিবাহ বন্ধ করি, কন্যা শিশুর অধিকারে বিনিয়োগ করি’—জাতিসংঘের এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন’ (এমজেএফ) এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

অনুষ্ঠানে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থার জরিপ তুলে ধরে জানানো হয়, দেশে ২০ থেকে ২৪ বছর বয়সী নারীদের মধ্যে ৪৭.২ শতাংশেরই বিয়ে হয়েছে ১৮ বছর পূর্ণ হওয়ার আগে এবং ১৩.৪ শতাংশের বিয়ে হয়েছে ১৫ বছর বয়সের আগেই। এছাড়া প্রাথমিক স্তরে শিক্ষা সমাপ্তির হার ৯১.৩ শতাংশ হলেও উচ্চ মাধ্যমিকে তা কমে মাত্র ৪১.১ শতাংশে নেমে আসে।

অনুষ্ঠানের মূল আকর্ষণ ছিল প্রান্তিক ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন কন্যা শিশুদের নিজেদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা। সেরাক বাংলাদেশের সুমাইয়া আক্তার বলে, ‘শিক্ষার সুযোগ ছাড়া মেয়েদের পক্ষে স্বাধীনভাবে ও সচেতনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া কঠিন।’

‘মায়ের আঁচল’-এর সাদিয়া আক্তার ইভা অভিযোগ করে বলে, বিদ্যালয়ে খেলাধুলার ক্ষেত্রে ছেলেরা মেয়েদের চেয়ে বেশি সময় ও সুযোগ-সুবিধা পায়।

বিআইএসসির শিক্ষার্থী তাসনিম ফেরদৌসী প্রশ্ন তোলে, ‘মানসিকভাবে পরিণত না হওয়া ১৬ বা ১৭ বছরের একটি মেয়ের ওপর কীভাবে সংসার পরিচালনা ও সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া হয়?’

উখাইনু মারমা ঋতুস্রাব নিয়ে সামাজিক কুসংস্কার, জাতিগত বৈষম্য এবং মাতৃভাষায় কথা বলার অধিকারের বিষয়টি সামনে আনে।

দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী কিশোরী আয়েশা আক্তার ব্রেইল ও অডিও শিক্ষাসামগ্রীসহ প্রতিবন্ধী কন্যা শিশুদের উপযোগী শিক্ষা নিশ্চিতের দাবি জানিয়ে বলে, ‘আমাদের করুণা নয়, প্রয়োজন সমান অধিকার ও সুযোগ।’

এসএফএক্স গ্রিনহেরাল্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলের শিক্ষার্থী ওয়াদিফা রহমান অপ্সরা মেয়েদের শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো ও বাল্যবিবাহ কমাতে সব পক্ষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানায়।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “শুধু ‘কন্যারা বিশ্ব জয় করবে’ বললেই হবে না। কীভাবে তারা বিশ্ব জয় করবে, সেই সুযোগ আমরা কীভাবে তৈরি করছি—তা নিয়েও ভাবতে হবে। বাল্যবিবাহ কন্যা শিশুর মৌলিক মানবাধিকারের লঙ্ঘন।’

তিনি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে বিদ্যমান ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে আইন বাস্তবায়ন এবং সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর জবাবদিহি বাড়ানোর আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন এমজেএফের সহকারী প্রকল্প ব্যবস্থাপক লাইসা মাহমুদ হেমা। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন তিয়াশা ঈদরাক এবং সংলাপে সঞ্চালনা করেন এমজেএফের মিডিয়া অ্যান্ড কমিউনিকেশন অফিসার নুসরাত ফাতিমা।

এতে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য দেন ব্রেকিং দ্য সাইলেন্সের নির্বাহী পরিচালক রোকসানা সুলতানা, প্ল্যান ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের ডিরেক্টর (ইনফ্লুয়েন্সিং ক্যাম্পেইন অ্যান্ড কমিউনিকেশনস) নিশাত সুলতানা এবং সেরাক বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক এস এম সৈকত।

সমাপনী বক্তব্যে মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের লিড (ইয়ুথ অ্যান্ড সোশ্যাল কোহেসন) ওয়াদিউর রহমান তন্ময় অংশগ্রহণকারী কন্যা শিশু ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলোকে ধন্যবাদ জানান। কেবল সচেতনতামূলক প্রচারণায় সীমাবদ্ধ না থেকে কন্যা শিশুদের সব ক্ষেত্রে সমান অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শেষ হয়।