ঢাকা ০৮:২৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শিশুর সুস্থ শৈশবের চাবিকাঠি, হাত ধোয়ার অভ্যাস

শৈশব মানেই নতুনকে চেনার আনন্দ, ধুলাবালি মেখে খেলাধুলা আর অবাধ ছুটাছুটি। কিন্তু এই চঞ্চল ও দুরন্ত বয়সে শিশুদের সুস্বাস্থ্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডের মতো সংক্রামক রোগের প্রধান কারণ হলো অপরিচ্ছন্ন হাত। তাই শিশুর শারীরিক বিকাশ ও সুস্থ শৈশব নিশ্চিত করতে সবচেয়ে সহজ অথচ কার্যকর ব্যবস্থা হলো নিয়মিত সাবান-পানিতে হাত ধোয়ার অভ্যাস।

কেন হাত ধোয়া শিশুর জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

​শিশুরা কৌতূহলবশত চারপাশের সবকিছু স্পর্শ করে এবং বারবার মুখে বা চোখে হাত দেয়। এই অভ্যাসের মাধ্যমেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সরাসরি তাদের শরীরে প্রবেশ করে। খাবার খাওয়ার আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুলে প্রায় ৫০ শতাংশ ডায়রিয়া এবং ২৫ শতাংশ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশু ঘন ঘন অসুস্থ না হলে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারে, যা তার পড়ালেখা ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। জীবাণুর সংক্রমণ কম হলে ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমে, ফলে শিশু অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে।

কখন অবশ্যই হাত ধুতে হবে?

​শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে হাত ধোয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত করা উচিত। যেমন, ​খাবার খাওয়ার আগে ও পরে যেন খাবারের সঙ্গে কোনো জীবাণু পেটে না যায়। ​বাইরে থেকে খেলাধুলা শেষে মাটির ধুলাবালি ও বাইরের জীবাণু দূর করতে হাত ধোয়া উচিৎ। ​টয়লেট বা শৌচাগার ব্যবহারের পর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বন্ধে, ​হাঁচি, কাশি বা নাক ঝাড়ার পর শ্বাসনালীর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে। ​পোষা প্রাণী বা খেলনা স্পর্শ করার পর বা পুরোনো খেলনার জীবাণু থেকে সুরক্ষায় হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

হাত ধোয়ার ৩ সঠিক ধাপ

​হাতে পানি ছিটিয়ে নেওয়াই হাত ধোয়া নয়। নিয়ম মেনে হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো-

  • হাত ভেজানো ও সাবান নেওয়া
  • স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন
  • চলমান পরিষ্কার পানিতে দুই হাত ভিজিয়ে নিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাবান বা লিকুইড সোপ নিন।

২০ সেকেন্ড ভালোভাবে ঘষা

কোনো অংশ যেন বাদ না পড়েহাতের তালু, পেছনের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, নখের ভেতরের অংশ এবং কবজি অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ফেনা তুলে ঘষুন।

পানি দিয়ে ধুয়ে শুকানো

পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার জরুরি। পরিষ্কার পানিতে ফেনা ধুয়ে ফেলুন এবং একটি শুকনা ও পরিষ্কার তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে হাত মুছে নিন।

শিশুর সুস্থ শৈশবের চাবিকাঠি, হাত ধোয়ার অভ্যাস

প্রকাশের সময় : ০৭:০৭:০০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

শৈশব মানেই নতুনকে চেনার আনন্দ, ধুলাবালি মেখে খেলাধুলা আর অবাধ ছুটাছুটি। কিন্তু এই চঞ্চল ও দুরন্ত বয়সে শিশুদের সুস্বাস্থ্যের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায় অনাকাঙ্ক্ষিত রোগজীবাণু। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, শিশুদের ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া ও টাইফয়েডের মতো সংক্রামক রোগের প্রধান কারণ হলো অপরিচ্ছন্ন হাত। তাই শিশুর শারীরিক বিকাশ ও সুস্থ শৈশব নিশ্চিত করতে সবচেয়ে সহজ অথচ কার্যকর ব্যবস্থা হলো নিয়মিত সাবান-পানিতে হাত ধোয়ার অভ্যাস।

কেন হাত ধোয়া শিশুর জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ?

​শিশুরা কৌতূহলবশত চারপাশের সবকিছু স্পর্শ করে এবং বারবার মুখে বা চোখে হাত দেয়। এই অভ্যাসের মাধ্যমেই ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও ভাইরাস সরাসরি তাদের শরীরে প্রবেশ করে। খাবার খাওয়ার আগে ও শৌচাগার ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে অন্তত ২০ সেকেন্ড হাত ধুলে প্রায় ৫০ শতাংশ ডায়রিয়া এবং ২৫ শতাংশ শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ প্রতিরোধ করা সম্ভব। শিশু ঘন ঘন অসুস্থ না হলে স্কুলে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে পারে, যা তার পড়ালেখা ও মানসিক বিকাশে ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। জীবাণুর সংক্রমণ কম হলে ওষুধের ওপর নির্ভরতা কমে, ফলে শিশু অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকে।

কখন অবশ্যই হাত ধুতে হবে?

​শিশুকে ছোটবেলা থেকেই নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে হাত ধোয়ার অভ্যাসে অভ্যস্ত করা উচিত। যেমন, ​খাবার খাওয়ার আগে ও পরে যেন খাবারের সঙ্গে কোনো জীবাণু পেটে না যায়। ​বাইরে থেকে খেলাধুলা শেষে মাটির ধুলাবালি ও বাইরের জীবাণু দূর করতে হাত ধোয়া উচিৎ। ​টয়লেট বা শৌচাগার ব্যবহারের পর ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বন্ধে, ​হাঁচি, কাশি বা নাক ঝাড়ার পর শ্বাসনালীর ভাইরাস ছড়িয়ে পড়া রোধ করতে। ​পোষা প্রাণী বা খেলনা স্পর্শ করার পর বা পুরোনো খেলনার জীবাণু থেকে সুরক্ষায় হাত ধোয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা উচিত।

হাত ধোয়ার ৩ সঠিক ধাপ

​হাতে পানি ছিটিয়ে নেওয়াই হাত ধোয়া নয়। নিয়ম মেনে হাত ধোয়ার সঠিক পদ্ধতি নিচে দেওয়া হলো-

  • হাত ভেজানো ও সাবান নেওয়া
  • স্বচ্ছ ও পরিষ্কার পানি ব্যবহার করুন
  • চলমান পরিষ্কার পানিতে দুই হাত ভিজিয়ে নিয়ে পর্যাপ্ত পরিমাণে সাবান বা লিকুইড সোপ নিন।

২০ সেকেন্ড ভালোভাবে ঘষা

কোনো অংশ যেন বাদ না পড়েহাতের তালু, পেছনের পিঠ, আঙুলের ফাঁক, নখের ভেতরের অংশ এবং কবজি অন্তত ২০ সেকেন্ড ধরে ফেনা তুলে ঘষুন।

পানি দিয়ে ধুয়ে শুকানো

পরিষ্কার তোয়ালে ব্যবহার জরুরি। পরিষ্কার পানিতে ফেনা ধুয়ে ফেলুন এবং একটি শুকনা ও পরিষ্কার তোয়ালে বা টিস্যু দিয়ে হাত মুছে নিন।