ঢাকা ০৭:৪২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কন্যাশিশুর বিকাশে আমাদের যেসব দায়বদ্ধতা আছে

নারী ও শিশুঃ  কন্যাশিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিতকরণে সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা অন্যতম প্রধান শর্ত। একটি কন্যাশিশু যখন বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তখন সে কেবল একজন স্বাবলম্বী ব্যক্তি হিসেবেই নিজেকে গড়ে তোলে না, বরং পুরো সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

​নিচে কন্যাশিশুর সুষ্ঠু বিকাশে আমাদের মূল দায়বদ্ধতাগুলো তুলে ধরা হলো-
​
বৈষম্যহীন পরিবার ও মানসিক সুরক্ষা

​বিকাশের প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার। ছেলে ও মেয়েশিশুর মাঝে যে কোনো ধরনের পার্থক্য দূর করা পরিবারের প্রাথমিক দায়িত্ব। খাদ্য, পোশাক, খেলাধুলা ও স্নেহের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েশিশুকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। ছোটবেলা থেকেই কন্যাশিশুর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবার বা আত্মীয়দের মাঝে কন্যাশিশুকে নিয়ে যে কোনো নিচু মন্তব্য বা অবহেলা বন্ধ করা।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টির যত্ন

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য কন্যাশিশুর বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। শৈশব ও কৈশোরে মেয়েদের পুষ্টিকর খাবার এবং রক্তস্বল্পতা রোধে আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করা, ​বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খোলাখুলি ও বিজ্ঞানসম্মত ধারণা দেওয়া। বিষণ্নতা, সামাজিক চাপ বা উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে বন্ধুভাবাপন্ন পরিবেশ তৈরি করা।

মানসম্মত শিক্ষা ও প্রযুক্তি দক্ষতা

কেবল প্রাথমিক শিক্ষা নয়, উচ্চশিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে কন্যাশিশুকে দক্ষ করে তোলা আবশ্যক। আর্থিক বা সামাজিক অজুহাতে কন্যাশিশুর পড়াশোনা বন্ধ না করে নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার সুযোগ দেওয়া। বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইসিটি, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের আগ্রহী করে তোলা। বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা বা সামাজিক বাধার কারণে যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা।

নিরাপত্তা ও বাল্যবিয়ে রোধ

কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে আইনগত ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। গৃহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে ১৮ বছরের আগে কন্যাশিশুর বিয়ে রোধে পরিবার ও সমাজকে একযোগে কাজ করা, শিশু নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

আত্মনির্ভরশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশ

কন্যাশিশুকে ভবিষ্যতে একজন স্বাধীন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। জীবনদক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মরক্ষা এবং আর্থিক সচেতনতা বিষয়ক শিক্ষা দেওয়া। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ করা।

কন্যাশিশুর বিকাশে আমাদের যেসব দায়বদ্ধতা আছে

প্রকাশের সময় : ০৬:৫২:৩১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

নারী ও শিশুঃ  কন্যাশিশুর সুন্দর ভবিষ্যৎ ও সুস্থ বিকাশ নিশ্চিতকরণে সমাজ, পরিবার ও রাষ্ট্রের সম্মিলিত দায়বদ্ধতা অন্যতম প্রধান শর্ত। একটি কন্যাশিশু যখন বৈষম্যহীন ও নিরাপদ পরিবেশে বেড়ে ওঠে, তখন সে কেবল একজন স্বাবলম্বী ব্যক্তি হিসেবেই নিজেকে গড়ে তোলে না, বরং পুরো সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

​নিচে কন্যাশিশুর সুষ্ঠু বিকাশে আমাদের মূল দায়বদ্ধতাগুলো তুলে ধরা হলো-
​
বৈষম্যহীন পরিবার ও মানসিক সুরক্ষা

​বিকাশের প্রথম পাঠশালা হলো পরিবার। ছেলে ও মেয়েশিশুর মাঝে যে কোনো ধরনের পার্থক্য দূর করা পরিবারের প্রাথমিক দায়িত্ব। খাদ্য, পোশাক, খেলাধুলা ও স্নেহের ক্ষেত্রে ছেলে ও মেয়েশিশুকে সমান গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ। ছোটবেলা থেকেই কন্যাশিশুর মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া এবং তাকে স্বাধীনভাবে চিন্তা করতে উৎসাহিত করতে হবে। পরিবার বা আত্মীয়দের মাঝে কন্যাশিশুকে নিয়ে যে কোনো নিচু মন্তব্য বা অবহেলা বন্ধ করা।

স্বাস্থ্য ও পুষ্টির যত্ন

শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য কন্যাশিশুর বিকাশের অন্যতম ভিত্তি। শৈশব ও কৈশোরে মেয়েদের পুষ্টিকর খাবার এবং রক্তস্বল্পতা রোধে আয়রন সমৃদ্ধ খাদ্যের যোগান নিশ্চিত করা, ​বয়ঃসন্ধিকালীন শারীরিক পরিবর্তন ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা নিয়ে খোলাখুলি ও বিজ্ঞানসম্মত ধারণা দেওয়া। বিষণ্নতা, সামাজিক চাপ বা উদ্বেগ কাটিয়ে উঠতে বন্ধুভাবাপন্ন পরিবেশ তৈরি করা।

মানসম্মত শিক্ষা ও প্রযুক্তি দক্ষতা

কেবল প্রাথমিক শিক্ষা নয়, উচ্চশিক্ষা এবং আধুনিক প্রযুক্তিতে কন্যাশিশুকে দক্ষ করে তোলা আবশ্যক। আর্থিক বা সামাজিক অজুহাতে কন্যাশিশুর পড়াশোনা বন্ধ না করে নিরবচ্ছিন্ন শিক্ষার সুযোগ দেওয়া। বর্তমান যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে আইসিটি, বিজ্ঞান ও কারিগরি শিক্ষায় মেয়েদের আগ্রহী করে তোলা। বয়ঃসন্ধিকালীন সমস্যা বা সামাজিক বাধার কারণে যেন শিক্ষা থেকে বঞ্চিত না হয়, সেদিকে বিশেষ নজর রাখা।

নিরাপত্তা ও বাল্যবিয়ে রোধ

কন্যাশিশুর নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে আইনগত ও সামাজিক সুরক্ষা জোরদার করা প্রয়োজন। গৃহ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যে কোনো ধরনের সহিংসতা, ইভটিজিং ও যৌন হয়রানি থেকে সুরক্ষা দেওয়া। সামাজিক কুসংস্কার ভেঙে ১৮ বছরের আগে কন্যাশিশুর বিয়ে রোধে পরিবার ও সমাজকে একযোগে কাজ করা, শিশু নির্যাতন ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনের সঠিক ও দ্রুত বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা।

আত্মনির্ভরশীলতা ও নেতৃত্বের বিকাশ

কন্যাশিশুকে ভবিষ্যতে একজন স্বাধীন ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে সক্ষম নাগরিক হিসেবে গড়ে তোলা আমাদের অন্যতম দায়িত্ব। জীবনদক্ষতা, সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা, আত্মরক্ষা এবং আর্থিক সচেতনতা বিষয়ক শিক্ষা দেওয়া। বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া কর্মকাণ্ডে মেয়েদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করে নেতৃত্বের গুণাবলি বিকাশ করা।