ঢাকা ০৮:৪০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এআইকে দেওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে আছে কি না জানবেন যেভাবে

তথ্য প্রযুক্তিঃ স্মার্টফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন নানা কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন অনেকে। ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে শুরু করে অফিসের নথি, ব্যবসার পরিকল্পনা কিংবা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্যও কেউ কেউ এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করেন।

কিন্তু এসব তথ্যের কোনো অংশ ডাটা ফাঁসের ঘটনায় প্রকাশ হয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ডার্ক ওয়েবে ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতারণা বা অ্যাকাউন্ট দখলের কাজে ব্যবহার হতে পারে। তবে এআইকে দেওয়া তথ্য সরাসরি ডার্ক ওয়েবে খুঁজে দেখার কোনও সর্বজনীন পদ্ধতি নেই। কয়েকটি নির্ভরযোগ্য টুল ব্যবহার করে ই-মেইল ঠিকানা বা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিচিত ডাটা ফাঁসে এসেছে কি না, তা যাচাই করা যায়।

ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে তথ্য ফাঁস পরীক্ষা করবেন যেভাবে

এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে Have I Been Pwned ওয়েবসাইট। পরিচিত বিভিন্ন ডাটা ফাঁসে কোনো ই-মেইল ঠিকানা পাওয়া গেছে কি না, তা পরীক্ষা করার সুযোগ দেয় এই সেবা।

প্রথমে ওয়েবসাইটটি খুলে নিজের ই-মেইল ঠিকানা লিখে সার্চ করুন। ফলাফলে ঠিকানাটি কোনো পরিচিত ডাটা ফাঁসে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার তথ্য দেখা যেতে পারে। সেখানে কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছিল, তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

তবে মনে রাখতে হবে, এই সেবায় কোনো তথ্য না পাওয়া মানেই আপনার সব তথ্য নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। সব ডাটা ফাঁসের তথ্য এখানে থাকে না। আবার ই-মেইল ঠিকানা কোনো ফাঁসে পাওয়া গেলেও আপনি এআইকে যে নির্দিষ্ট বার্তা বা নথি দিয়েছেন, সেটিই ফাঁস হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

এআই অ্যাকাউন্টের তথ্য সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

এআই ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় কয়েকটি সতর্কতা জরুরি। চ্যাটবটে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য, পরিচয়পত্রের নম্বর কিংবা সংবেদনশীল অফিসের নথি দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয়তা ও গোপনীয়তার শর্ত বিবেচনা করুন।

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলে ‘সেটিংস’ থেকে ‘ডাটা কন্ট্রোলস’ বিভাগে গিয়ে ‘ইম্প্রুভ দ্য মডেল ফর এভরিওয়ান’ অপশন বন্ধ করতে পারেন। এতে নতুন কথোপকথন মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা হবে না, যদিও সেগুলো চ্যাট হিস্ট্রিতে থাকতে পারে।

এছাড়া সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে টেম্পোরারি চ্যাট ব্যবহার করা যায়। চ্যাটজিপিটিতে এ ধরনের কথোপকথন সাধারণ চ্যাট হিস্ট্রিতে দেখা যায় না এবং মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা হয় না। তবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে কথোপকথন ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা হতে পারে।

তথ্য ফাঁস হয়েছে বুঝতে পারলে কী করবেন?

ই-মেইল ঠিকানা বা পাসওয়ার্ড পরিচিত ডাটা ফাঁসে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে সেগুলোর পাসওয়ার্ডও আলাদা করে পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন, যাতে পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও অন্য কেউ সহজে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারে।

ডার্ক ওয়েবে তথ্য খুঁজে দেওয়ার দাবি করে এমন অপরিচিত ওয়েবসাইটে নিজের পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ডের তথ্য বা এআই চ্যাটের সম্পূর্ণ ইতিহাস আপলোড করবেন না। এসব সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। সন্দেহজনক লগইন বা আর্থিক লেনদেন চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী কিংবা ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআইকে দেওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে রয়েছে কি না, তা কোনো একটি ওয়েবসাইটের ফলাফল দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। পরিচিত ডাটা ফাঁসের রেকর্ড পরীক্ষা করা, অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা এবং এআইয়ের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করাই ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায়।

এআইকে দেওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে আছে কি না জানবেন যেভাবে

প্রকাশের সময় : ০৬:২৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

তথ্য প্রযুক্তিঃ স্মার্টফোন, ই-মেইল ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাশাপাশি এখন নানা কাজে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই চ্যাটবট ব্যবহার করছেন অনেকে। ব্যক্তিগত সমস্যা থেকে শুরু করে অফিসের নথি, ব্যবসার পরিকল্পনা কিংবা বিভিন্ন অ্যাকাউন্টের তথ্যও কেউ কেউ এআইয়ের সঙ্গে শেয়ার করেন।

কিন্তু এসব তথ্যের কোনো অংশ ডাটা ফাঁসের ঘটনায় প্রকাশ হয়ে গেছে কি না, তা নিয়ে অনেকেরই উদ্বেগ রয়েছে। বিশেষ করে ডার্ক ওয়েবে ব্যক্তিগত তথ্য ছড়িয়ে পড়লে তা প্রতারণা বা অ্যাকাউন্ট দখলের কাজে ব্যবহার হতে পারে। তবে এআইকে দেওয়া তথ্য সরাসরি ডার্ক ওয়েবে খুঁজে দেখার কোনও সর্বজনীন পদ্ধতি নেই। কয়েকটি নির্ভরযোগ্য টুল ব্যবহার করে ই-মেইল ঠিকানা বা সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের তথ্য পরিচিত ডাটা ফাঁসে এসেছে কি না, তা যাচাই করা যায়।

ই-মেইল ঠিকানা দিয়ে তথ্য ফাঁস পরীক্ষা করবেন যেভাবে

এ কাজে ব্যবহার করা যেতে পারে Have I Been Pwned ওয়েবসাইট। পরিচিত বিভিন্ন ডাটা ফাঁসে কোনো ই-মেইল ঠিকানা পাওয়া গেছে কি না, তা পরীক্ষা করার সুযোগ দেয় এই সেবা।

প্রথমে ওয়েবসাইটটি খুলে নিজের ই-মেইল ঠিকানা লিখে সার্চ করুন। ফলাফলে ঠিকানাটি কোনো পরিচিত ডাটা ফাঁসে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ঘটনার তথ্য দেখা যেতে পারে। সেখানে কী ধরনের তথ্য ফাঁস হয়েছিল, তা দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

তবে মনে রাখতে হবে, এই সেবায় কোনো তথ্য না পাওয়া মানেই আপনার সব তথ্য নিরাপদ, এমন নিশ্চয়তা নেই। সব ডাটা ফাঁসের তথ্য এখানে থাকে না। আবার ই-মেইল ঠিকানা কোনো ফাঁসে পাওয়া গেলেও আপনি এআইকে যে নির্দিষ্ট বার্তা বা নথি দিয়েছেন, সেটিই ফাঁস হয়েছে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।

এআই অ্যাকাউন্টের তথ্য সুরক্ষিত রাখবেন যেভাবে

এআই ব্যবহারের সময় ব্যক্তিগত তথ্যের সুরক্ষায় কয়েকটি সতর্কতা জরুরি। চ্যাটবটে পাসওয়ার্ড, ব্যাংক অ্যাকাউন্টের গোপন তথ্য, পরিচয়পত্রের নম্বর কিংবা সংবেদনশীল অফিসের নথি দেওয়ার আগে প্রয়োজনীয়তা ও গোপনীয়তার শর্ত বিবেচনা করুন।

চ্যাটজিপিটি ব্যবহার করলে ‘সেটিংস’ থেকে ‘ডাটা কন্ট্রোলস’ বিভাগে গিয়ে ‘ইম্প্রুভ দ্য মডেল ফর এভরিওয়ান’ অপশন বন্ধ করতে পারেন। এতে নতুন কথোপকথন মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা হবে না, যদিও সেগুলো চ্যাট হিস্ট্রিতে থাকতে পারে।

এছাড়া সংবেদনশীল বিষয়ে কথা বলার ক্ষেত্রে টেম্পোরারি চ্যাট ব্যবহার করা যায়। চ্যাটজিপিটিতে এ ধরনের কথোপকথন সাধারণ চ্যাট হিস্ট্রিতে দেখা যায় না এবং মডেল উন্নত করার কাজে ব্যবহার করা হয় না। তবে নিরাপত্তার প্রয়োজনে কথোপকথন ৩০ দিন পর্যন্ত রাখা হতে পারে।

তথ্য ফাঁস হয়েছে বুঝতে পারলে কী করবেন?

ই-মেইল ঠিকানা বা পাসওয়ার্ড পরিচিত ডাটা ফাঁসে পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড বদলে ফেলুন। একই পাসওয়ার্ড একাধিক অ্যাকাউন্টে ব্যবহার করলে সেগুলোর পাসওয়ার্ডও আলাদা করে পরিবর্তন করুন। সম্ভব হলে টু-ফ্যাক্টর অথেনটিকেশন চালু করুন, যাতে পাসওয়ার্ড জানা থাকলেও অন্য কেউ সহজে অ্যাকাউন্টে ঢুকতে না পারে।

ডার্ক ওয়েবে তথ্য খুঁজে দেওয়ার দাবি করে এমন অপরিচিত ওয়েবসাইটে নিজের পাসওয়ার্ড, ব্যাংক কার্ডের তথ্য বা এআই চ্যাটের সম্পূর্ণ ইতিহাস আপলোড করবেন না। এসব সাইটের বিশ্বাসযোগ্যতা যাচাই করা জরুরি। সন্দেহজনক লগইন বা আর্থিক লেনদেন চোখে পড়লে সংশ্লিষ্ট সেবা প্রদানকারী কিংবা ব্যাংকের সঙ্গে যোগাযোগ করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, এআইকে দেওয়া তথ্য ডার্ক ওয়েবে রয়েছে কি না, তা কোনো একটি ওয়েবসাইটের ফলাফল দিয়ে নিশ্চিত করা যায় না। পরিচিত ডাটা ফাঁসের রেকর্ড পরীক্ষা করা, অ্যাকাউন্ট সুরক্ষিত রাখা এবং এআইয়ের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় সংবেদনশীল তথ্য শেয়ার না করাই ঝুঁকি কমানোর কার্যকর উপায়।