ঢাকা ০৬:৫০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বন্ধ কারখানা সচলের ঋণে সাড়া কম

অর্থনীতি ডেস্কঃ ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে পাঁচ মাসে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের ঋণে সাড়া কম। বন্ধ কারখানা সচলে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো। এর বাইরে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাজে গতিশীলতা আনা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানসহ ছয়টি খাতের জন্য গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এখনও এক টাকাও বিতরণ হয়নি।

ব্যাংকাররা বলছেন, বাংলাদেশে অর্থায়ন সমস্যার কারণে ভালো কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার নজির কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঋণের টাকা পাচার, ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ইত্যাদি কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই। ফলে ব্যাংকগুলোকে অনেক দেখেশুনে ঋণ দিতে হচ্ছে। আবার বন্ধ কারখানা সচলের এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বিদ্যুৎ-গ্যাসের নিশ্চয়তা মিলছে না। এসব কারণে কম সুদের এ ঋণে সাড়া কম। একজন ব্যাংকার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব ঋণ বিতরণে ব্যাপক চাপাচাপি করা হচ্ছে। যে কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিথিল নিয়মের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। তা না হলে এসব ঋণ বিতরণ আরও কম হতো।

চলতি বছরের ২৩ মে ১৫টি খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এই তহবিলের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা এসেছে উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংকগুলো থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল করেছে। সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণ বিতরণের মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য।

কোন খাতে কত ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বন্ধ শিল্পকারখানা ও সেবা খাতের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ৫৬১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। আর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও ৯২৯ কোটি টাকা। শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানি, রপ্তানি আদেশের বিপরীতে ইউটিলিটি বিল ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অর্থায়ন করা হবে। ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিল নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে বিতরণ করবে। সব ক্ষেত্রে একটি অংশ ভর্তুকি দেবে সরকার।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দুটি তহবিলের পুরো অর্থ বিতরণ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পুরোটাই বিতরণ করা হয়েছে। অবশ্য কোথায় কত টাকা গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর প্রিশিপমেন্ট খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুরোনো পুনঃঅর্থায়নের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ছয় হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। পণ্য জাহাজীকরণের জন্য এ তহবিল থেকে স্বল্প সময়ের জন্য অর্থ দিয়ে তা আদায়ের পর আবার বিতরণ করা হয়। যে কারণে তহবিলের আকারের চেয়ে বিতরণের পরিমাণ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কুটির ও মাইক্রো খাতের উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। সিএমএসএমই খাতের পাঁচ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়নের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে ৯০৮ কোটি টাকা। দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণে মাত্র ২৯৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির জন্য গঠিত তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে মাত্র ৪৯ কোটি টাকা বিতরণ করা গেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য এক হাজার টাকার তহবিল থেকে গেছে ২০০ কোটি টাকা। স্টার্ট আপের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে ৩৩ কোটি টকা বিতরণ হয়েছে। আরও পাঁচ কোটি টাকা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এক টাকাও বিতরণ হয়নি ৬ তহবিলে

সুদ ভর্তুকির আওতায় গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়টি প্রণোদনা তহবিল থেকে এখনও এক টাকাও বিতরণ হয়নি। এর মধ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এক টাকাও বিতরণ হয়নি। তবে পুরো অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা তৈরিতে এক হাজার কোটি টাকার তহবিলে ৫২৭ কোটি টাকা বিতরণ প্রক্রিয়ায় থাকলেও এখনও এক টাকাও বিতরণ হয়নি। বিতরণ না হওয়ার তালিকায় রয়েছে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিতে অর্থায়নের জন্য গঠিত দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল। এখানে মাত্র ৯৮ কোটি টাকা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বন্ধ কারখানা সচলের ঋণে সাড়া কম

প্রকাশের সময় : ০৪:১৯:১১ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

অর্থনীতি ডেস্কঃ ব্যবসা-বাণিজ্য চাঙ্গা করতে বাংলাদেশ ব্যাংকের ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে পাঁচ মাসে প্রায় ১২ হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। এই প্যাকেজের আওতায় বন্ধ শিল্প ও সেবা খাতের ঋণে সাড়া কম। বন্ধ কারখানা সচলে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এ পর্যন্ত বিতরণ হয়েছে মাত্র সাড়ে ৫০০ কোটি টাকার মতো। এর বাইরে গ্রামীণ অর্থনৈতিক কাজে গতিশীলতা আনা, বেকার যুবকদের কর্মসংস্থানসহ ছয়টি খাতের জন্য গঠিত ১০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এখনও এক টাকাও বিতরণ হয়নি।

ব্যাংকাররা বলছেন, বাংলাদেশে অর্থায়ন সমস্যার কারণে ভালো কোনো কারখানা বন্ধ হওয়ার নজির কম। বেশির ভাগ ক্ষেত্রে ঋণের টাকা পাচার, ব্যবস্থাপনার অদক্ষতা, রাজনৈতিক প্রতিহিংসা, বিদ্যুৎ-গ্যাস সংকট ইত্যাদি কারণে শিল্পকারখানা বন্ধ হয়েছে। এসব ক্ষেত্রে পরিস্থিতির তেমন উন্নতি নেই। ফলে ব্যাংকগুলোকে অনেক দেখেশুনে ঋণ দিতে হচ্ছে। আবার বন্ধ কারখানা সচলের এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন বিদ্যুৎ-গ্যাসের নিশ্চয়তা মিলছে না। এসব কারণে কম সুদের এ ঋণে সাড়া কম। একজন ব্যাংকার বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে এসব ঋণ বিতরণে ব্যাপক চাপাচাপি করা হচ্ছে। যে কারণে কোনো কোনো ক্ষেত্রে শিথিল নিয়মের মাধ্যমে অর্থ ছাড় করা হচ্ছে। তা না হলে এসব ঋণ বিতরণ আরও কম হতো।

চলতি বছরের ২৩ মে ১৫টি খাতের জন্য ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। এই তহবিলের মধ্যে ৪১ হাজার কোটি টাকা এসেছে উদ্বৃত্ত থাকা ব্যাংকগুলো থেকে। কেন্দ্রীয় ব্যাংক ১৯ হাজার কোটি টাকার পুনঃঅর্থায়ন তহবিল করেছে। সরকারের সুদ ভর্তুকির আওতায় গ্রাহক পর্যায়ে এ ঋণ বিতরণের মাধ্যমে ২৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের লক্ষ্য।

কোন খাতে কত ঋণ

বাংলাদেশ ব্যাংক গত ১৫ অক্টোবর পর্যন্ত হালনাগাদ তথ্য প্রকাশ করেছে। এতে দেখা যাচ্ছে, বন্ধ শিল্পকারখানা ও সেবা খাতের ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে ৫৬১ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। আর প্রক্রিয়াধীন রয়েছে আরও ৯২৯ কোটি টাকা। শিল্পের জন্য কাঁচামাল আমদানি, রপ্তানি আদেশের বিপরীতে ইউটিলিটি বিল ও শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অর্থায়ন করা হবে। ব্যাংকগুলো ৪ শতাংশ সুদে বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে তহবিল নিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ সুদে বিতরণ করবে। সব ক্ষেত্রে একটি অংশ ভর্তুকি দেবে সরকার।

প্রণোদনা প্যাকেজের আওতায় দুটি তহবিলের পুরো অর্থ বিতরণ দেখানো হয়েছে। এর মধ্যে সৃজনশীল অর্থনীতির জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিলের পুরোটাই বিতরণ করা হয়েছে। অবশ্য কোথায় কত টাকা গেছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য দেয়নি কেন্দ্রীয় ব্যাংক। আর প্রিশিপমেন্ট খাতে পাঁচ হাজার কোটি টাকার পুরোনো পুনঃঅর্থায়নের বিপরীতে বিতরণ হয়েছে ছয় হাজার ৯১৭ কোটি টাকা। পণ্য জাহাজীকরণের জন্য এ তহবিল থেকে স্বল্প সময়ের জন্য অর্থ দিয়ে তা আদায়ের পর আবার বিতরণ করা হয়। যে কারণে তহবিলের আকারের চেয়ে বিতরণের পরিমাণ বেশি।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, কুটির ও মাইক্রো খাতের উদ্যোক্তা সৃষ্টির পাঁচ হাজার কোটি টাকার বিশেষ স্কিম থেকে আড়াই হাজার কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে। সিএমএসএমই খাতের পাঁচ হাজার কোটি টাকার চলতি মূলধন পুনঃঅর্থায়নের বিপরীতে দেওয়া হয়েছে ৯০৮ কোটি টাকা। দেশের কৃষি উৎপাদন বাড়ানোর মাধ্যমে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির জন্য ১০ হাজার কোটি টাকার ঋণে মাত্র ২৯৩ কোটি টাকা বিতরণ হয়েছে।

উত্তরবঙ্গে কৃষিভিত্তিক বিশেষ অর্থনৈতিক কেন্দ্র সৃষ্টির জন্য গঠিত তিন হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে মাত্র ৪৯ কোটি টাকা বিতরণ করা গেছে। বৈদেশিক কর্মসংস্থানের জন্য এক হাজার টাকার তহবিল থেকে গেছে ২০০ কোটি টাকা। স্টার্ট আপের জন্য ৫০০ কোটি টাকার তহবিল থেকে ৩৩ কোটি টকা বিতরণ হয়েছে। আরও পাঁচ কোটি টাকা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

এক টাকাও বিতরণ হয়নি ৬ তহবিলে

সুদ ভর্তুকির আওতায় গঠিত বাংলাদেশ ব্যাংকের ছয়টি প্রণোদনা তহবিল থেকে এখনও এক টাকাও বিতরণ হয়নি। এর মধ্যে বেকার যুবকদের কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে এক হাজার কোটি টাকার তহবিল থেকে এক টাকাও বিতরণ হয়নি। তবে পুরো অর্থ বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে বলে জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। পরিবেশবান্ধব সবুজ কারখানা তৈরিতে এক হাজার কোটি টাকার তহবিলে ৫২৭ কোটি টাকা বিতরণ প্রক্রিয়ায় থাকলেও এখনও এক টাকাও বিতরণ হয়নি। বিতরণ না হওয়ার তালিকায় রয়েছে চামড়াজাত পণ্য ও পাদুকা রপ্তানিতে অর্থায়নের জন্য গঠিত দুই হাজার কোটি টাকার তহবিল। এখানে মাত্র ৯৮ কোটি টাকা বিতরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে।