
মো. এমদাদুল হক সরকারের জন্ম ১৯৯৭ সালে কুমিল্লার চান্দিনা উপজেলার বামুটিয়া গ্রামে। বাবা মো. আব্দুল কাদের সরকার, মা মােসা. রাশেদা বেগম। প্রাথমিক শিক্ষা নিয়েছেন বামুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। মাধ্যমিক পড়েছেন মহিচাইল উচ্চ বিদ্যালয়ে। উচ্চমাধ্যমিক পড়েছেন চান্দিনা রেদোয়ান আহমেদ কলেজে। সবশেষে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ইংরেজি বিষয়ে অনার্স ও মাস্টার্স ডিগ্রি লাভ করেন।
তিনি ৪৫তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে গেজেটভুক্ত হয়েছেন। সম্প্রতি তার বিসিএস পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া, ভবিষ্যৎ স্বপ্ন ও সফলতার গল্প শুনিয়েছেন জাগো নিউজকে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সালাহ উদ্দিন মাহমুদ—
আপনার ছোটবেলা কেমন কেটেছে?
মো. এমদাদুল হক সরকার: পরিবারের সঙ্গে গ্রামে বেড়ে ওঠা। ছোট সন্তান হওয়ায় বাবা-মা ও ভাই-বোন সবার আদরের ছিলাম। বাবার হাত ধরে প্রথম স্কুলে যাই। পড়াশোনার হাতেখড়ি বাবা-মার হাত ধরেই। গ্রাম্য পরিবেশে হেসেখেলে বড় হয়েছি। সকালে মক্তবে যেতাম, এরপর স্কুল, বিকেলে খেলাধুলা, রাতে পড়াশোনা এভাবেই কেটেছে ছোটবেলা।
পড়াশেনায় কোনো প্রতিবন্ধকতা ছিল কি?
মো. এমদাদুল হক সরকার: পড়াশোনার পাশাপাশি বাবা-মায়ের কাজে সাহায্য করতাম। ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে থাকাকালিন প্রথম টিউশনি করিয়েছি। দশম শ্রেণির পর থেকে নিয়মিত টিউশনি করতাম, যেন বাবা-মায়ের ওপর আর্থিক চাপ না পড়ে। কারণ বাবা কৃষক ও মা গৃহিণী হওয়ায় চার ভাই-বোনের পড়ালেখার খরচ চালাতে হিমশিম খেতে হতো। তবে পড়াশোনার ব্যাপারে বাবা-মায়ের উৎসাহের কমতি ছিল না।
বিসিএসের স্বপ্ন দেখেছিলেন কখন থেকে?
মো. এমদাদুল হক সরকার: বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর প্রতি বছর যখন বিসিএস রেজাল্ট হতো; তখন ভার্সিটির সিনিয়র ভাই-বোনদের ক্যাডার হতে দেখতাম। সেটা থেকেই বিসিএসের প্রতি আগ্রহ জন্মায়। এ ছাড়া কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশেই ছিল বাংলাদেশ পল্লী উন্নয়ন একাডেমি (বার্ড)। যেখানে বিভিন্ন ক্যাডার সার্ভিসের কর্মকর্তারা প্রশিক্ষণ নিতে আসতেন। তাদের সুশৃঙ্খল লাইফস্টাইল দেখেও ক্যাডার সার্ভিসে যাওয়ার স্বপ্ন জাগতো।
বিসিএস যাত্রার গল্প শুনতে চাই—
মো. এমদাদুল হক সরকার: বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন প্রচুর টিউশনি করিয়েছি। অঙ্ক, ইংরেজি ও সায়েন্সের বিষয়সমূহ পড়াতাম বলে এসএসসি ও এইচএসসি লেভেলের জব প্রস্তুতির জন্য প্রয়োজনীয় বইগুলো চর্চায় ছিল। এ ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে থাকাকালীন পড়াশোনা বিষয়ক একটি সংগঠনের মাধ্যমে প্রতি সপ্তাহে সমসাময়িক ইস্যু, ক্লাসিক বই নিয়ে আড্ডা দিতাম। অবসরে বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় লেখালেখি করতাম। এগুলো বিসিএস প্রস্তুতির ভিত্তি মজবুত করেছিল।
করোনাকাল থেকে পুরোদমে প্রস্তুতি শুরু করি। প্রতি বিষয়ে একাধিক বই না পড়ে এক বই বারবার পড়তাম, পত্রিকায় গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পেলে সেটা নোট করে রাখতাম। তবে কোথাও কোচিং করিনি, পরীক্ষার আগে মডেল টেস্ট দিয়েছি। দৃঢ় মনোবল ছিল, চেষ্টা করলে পারবো। ৪৩তম বিসিএস ছিল প্রথম বিসিএস। অ্যাপিয়ার্ড দিয়ে পরীক্ষা দিয়ে সেটাতে প্রিলি উৎরাতে পারিনি। এরপর নিজের দুর্বলতা খুঁজে সেভাবে প্রস্তুতি শুরু করি। পরবর্তীতে ৪৪, ৪৫ ও ৪৬তম বিসিএস প্রিলিতে উত্তীর্ণ হই। সুত্রঃ জাগো নিউজ২৪
টাঙ্গাইল ভযেস ২৪ ডেস্ক: 















