ঢাকা ০১:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুবকের বাড়িতে শোকের মাতম

অনলাইন ডেস্কঃ বিদেশের মাটিতে না জানিয়ে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন বাংলাদেশি যুবক নজরুলের বাবা-মা। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারানো কিছুতে মানতে পারছেন না তারা।গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় ‘কথিত’ অনৈতিক কাজের অভিযোগে এক নারীসহ নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সেদেশের সরকার। যা তারা জানতে পারেন গণমাধ্যমের খবরে।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজজনের মধ্যে নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। তিনি চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, নজরুল ইসলাম এসএসসি পাশ করে পরিবারের হাল ধরতে ২০২২ সালে সৌদি আরবে যান। সেখানের মক্কা নগরীর হারাম শরীফে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ পান।
সাত মাসের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে হঠাৎ একদিন সে ফোন দিয়ে জানায় সে কারাগারে বন্দি। তবে কি কারণে সে বন্দি সে বিষয়টি জানায়নি।নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, আমার ছেলে তিন বছরের বেশি সময় সেখানে আটক থাকার পর গেল বুধবার ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কনস্যুলেট কিংবা পরিবারকে না জানিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল ইসলামকে আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কি ছিল তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।তার মা রেহেনা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে এসএসসি পাশ করার পর বলে সে আর লেখাপড়া করবে না। তাই পরিবারের হাল ধরতে সৌদি আরবে যায়। সে বলেছিল ‘ছোট ছোট তিনটি ভাই-বোন আছে তাদের জন্য মায়া লাগে। তাদের জন্য আমি কিছু করতে চাই।’

গত রোববার আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে, আমাদের খোঁজ খবর নিয়েছে সে। এরপর গত বুধবার জানতে পারি আমার ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অথচ আমাদের একবারও জানায়নি। সরকারের কাছে আবেদন আমার ছেলের মরদেহটা যেন একবারের জন্য দেখতে পারি।

এদিকে নজরুলে মৃত্যুর খবরে শোক সইতে না পেরে সেদিনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। এমন করুণ পরিণতিতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসীরা শোকার্ত মা-বাবার পাশে থাকতে তার বাড়িতে ভিড় করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন মৃত্যুদণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, মরদেহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।

সৌদিতে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া যুবকের বাড়িতে শোকের মাতম

প্রকাশের সময় : ০৩:৫৩:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬

অনলাইন ডেস্কঃ বিদেশের মাটিতে না জানিয়ে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার খবরে শোকে স্তব্ধ হয়ে গেছেন বাংলাদেশি যুবক নজরুলের বাবা-মা। একমাত্র উপার্জনক্ষম সন্তান হারানো কিছুতে মানতে পারছেন না তারা।গত ১৪ অক্টোবর সৌদি আরবের মক্কায় ‘কথিত’ অনৈতিক কাজের অভিযোগে এক নারীসহ নজরুল ইসলামের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করে সেদেশের সরকার। যা তারা জানতে পারেন গণমাধ্যমের খবরে।মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত দুইজজনের মধ্যে নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। তিনি চার ভাইবোনের মধ্যে সবার বড়।

পরিবারের সদস্যরা জানায়, নজরুল ইসলাম এসএসসি পাশ করে পরিবারের হাল ধরতে ২০২২ সালে সৌদি আরবে যান। সেখানের মক্কা নগরীর হারাম শরীফে পরিচ্ছন্নতা কর্মীর কাজ পান।
সাত মাসের পর থেকে তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। পরে হঠাৎ একদিন সে ফোন দিয়ে জানায় সে কারাগারে বন্দি। তবে কি কারণে সে বন্দি সে বিষয়টি জানায়নি।নজরুলের বাবা আবদুল বাছির বলেন, আমার ছেলে তিন বছরের বেশি সময় সেখানে আটক থাকার পর গেল বুধবার ১৪ অক্টোবর বাংলাদেশ কনস্যুলেট কিংবা পরিবারকে না জানিয়ে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এ অবস্থায় মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে নজরুল ইসলামকে আইনি সহায়তার সুযোগ দেওয়া হয়েছিল কি না কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের ভূমিকা কি ছিল তা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান।তার মা রেহেনা বেগম কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, আমার ছেলে এসএসসি পাশ করার পর বলে সে আর লেখাপড়া করবে না। তাই পরিবারের হাল ধরতে সৌদি আরবে যায়। সে বলেছিল ‘ছোট ছোট তিনটি ভাই-বোন আছে তাদের জন্য মায়া লাগে। তাদের জন্য আমি কিছু করতে চাই।’

গত রোববার আমার ছেলের সঙ্গে শেষ কথা হয়েছে, আমাদের খোঁজ খবর নিয়েছে সে। এরপর গত বুধবার জানতে পারি আমার ছেলেকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। অথচ আমাদের একবারও জানায়নি। সরকারের কাছে আবেদন আমার ছেলের মরদেহটা যেন একবারের জন্য দেখতে পারি।

এদিকে নজরুলে মৃত্যুর খবরে শোক সইতে না পেরে সেদিনই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায় ফুফু আবেদা বেগম (৬৫)। এমন করুণ পরিণতিতে গ্রামজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজন ও এলাকাবাসীরা শোকার্ত মা-বাবার পাশে থাকতে তার বাড়িতে ভিড় করছেন।

স্থানীয়রা জানান, বাংলাদেশ সরকারকে না জানিয়ে এবং আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে এমন মৃত্যুদণ্ড মেনে নেওয়া যায় না।

জেলা প্রশাসক মো. আবু সাঈদ জানান, মরদেহ ফিরিয়ে আনতে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি। মরদেহ দেশে ফিরলে ভুক্তভোগী পরিবারকে সহায়তা করা হবে।