ঢাকা ০৮:২৩ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ৪ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংধনু কেন সমকামিতার প্রতীক, কীভাবে হলো?

ফিচার ডেস্কঃ বৃষ্টির পর আকাশে সাত রঙের রংধনু দেখা গেলে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন অনেকেই। কিন্তু এই রংধনুই যখন ছয়টি রঙের পতাকায় ধরা দেয়, তখন তা হয়ে ওঠে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের পরিচয়, অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। বিশ্বজুড়ে এলজিবিটি বা সমকামী সম্প্রদায়ের মানুষ রংধনু পতাকাকে নিজেদের অস্তিত্ব, বৈচিত্র্য এবং সমান অধিকারের দাবির সঙ্গে যুক্ত করেন। কিন্তু প্রকৃতির এই রঙিন দৃশ্য কীভাবে সমকামিতা ও এলজিবিটি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠলো?

এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ১৯৭০-এর দশকের আমেরিকায়, যখন সমকামী ও অন্যান্য যৌন সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন নতুন পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক খুঁজছিল।

রংধনু পতাকার সূচনা কীভাবে?

১৯৭৮ সালে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে শিল্পী ও অধিকারকর্মী গিলবার্ট বেকার একটি নতুন পতাকার নকশা তৈরি করেন। সমকামী অধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদ হার্ভে মিল্কসহ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এমন একটি প্রতীক চেয়েছিলেন, যা এই সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্য ও ঐক্যকে তুলে ধরবে। এর আগে বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহৃত হলেও রংধনুর মতো উজ্জ্বল ও ইতিবাচক একটি নকশা নতুন পরিচয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে। বেকারের পাশাপাশি লিন সেগারব্লম, জেমস ম্যাকনামারা এবং আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবী পতাকা তৈরিতে অবদান রাখেন।১৯৭৮ সালের ২৫ জুন সান ফ্রান্সিসকোর গে ফ্রিডম ডে উদযাপনে প্রথম রংধনু পতাকা উড়ানো হয়। পতাকাটি তখন আজকের মতো ছয় রঙের ছিল না; তাতে ছিল আটটি রঙের আলাদা শেড। প্রতিটি রঙের সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি বিশেষ তাৎপর্য। এভাবেই রংধনু ধীরে ধীরে এলজিবিটি আন্দোলনের পরিচিত প্রতীকে পরিণত হতে শুরু করে।

আট রঙের পতাকা থেকে ছয় রঙে এলো কীভাবে?

প্রথম রংধনু পতাকায় আটটি রঙের প্রত্যেকটির জন্য আলাদা অর্থ নির্ধারণ করেছিলেন বেকার। সেগুলো ছিল গোলাপি যৌনতা, লাল জীবন, কমলা সুস্থ হয়ে ওঠা, হলুদ সূর্যের আলো, সবুজ প্রকৃতি, ফিরোজা শিল্প ও জাদু, নীল প্রশান্তি এবং বেগুনি আত্মার প্রতীক।

কিন্তু পতাকাটির প্রথম নকশা বেশিদিন একই রকম থাকেনি। গোলাপি রঙের কাপড় সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে সেই রংটি বাদ দেওয়া হয়। পরে পতাকাটিকে সমান ভাগে সাজানোর সুবিধার্থে ফিরোজা রংটিও সরিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই আট রঙের পতাকা ছয় রঙের রূপ পায়। বর্তমানে পরিচিত পতাকায় রয়েছে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল ও বেগুনি রঙের ছয়টি অনুভূমিক রেখা।

রংধনুই কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল?

রংধনুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, আলাদা আলাদা রং একসঙ্গে মিলেও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। এই বৈশিষ্ট্যকেই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। সমাজে মানুষের যৌন অভিমুখিতা, লিঙ্গপরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। সেই ভিন্নতাকে স্বীকার করে সবার সমান মর্যাদা ও অধিকারের দাবিই রংধনু পতাকার অন্যতম প্রধান বার্তা।

বেকারের ভাবনায় রংধনু ছিল আশার প্রতীকও। এটি কোনো একটি গোষ্ঠীর একমাত্র পরিচয় নয়; বরং নানা পরিচয়ের মানুষের সম্মিলিত উপস্থিতিকে তুলে ধরতে পারে। ফলে এমন একটি প্রতীক তৈরি হয়, যা ভাষা বা দেশের সীমানা পেরিয়ে সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

এখানে মনে রাখা দরকার, রংধনু সব সময় বা সব জায়গায় এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতীক ছিল না। প্রকৃতি, আশা ও নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবেও রংধনুর ব্যবহার রয়েছে। তবে ১৯৭০-এর দশকের অধিকার আন্দোলনের পর রংধনু পতাকা এলজিবিটি+ বা সমকামী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

আজকের দিনে রংধনু পতাকার তাৎপর্য কী?

বর্তমানে রংধনু পতাকা শুধু সমকামী মানুষের পরিচয়ের প্রতীক নয়। লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, কুইয়ারসহ এলজিবিটি+ বা সমকামী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পরিচয়ের মানুষও এই পতাকাকে নিজেদের অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাইড প্যারেড, অধিকার আদায়ের কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নানা জনসমাগমে পতাকাটি দেখা যায়। কোথাও এটি নিজের পরিচয় প্রকাশের সাহসকে তুলে ধরে, কোথাও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। আবার অনেকের কাছে এটি এমন একটি সমাজের প্রত্যাশার প্রতীক, যেখানে যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গপরিচয়ের কারণে কাউকে অপমান কিংবা বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। কিন্তু সামাজিক, ধর্মীয় এবং শারীরিক সুস্বাস্থ্যের দিক থেকে এটি এখনো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে নিষিদ্ধ। প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যকলাপে শাস্তির বিধানও রয়েছে কিছু ক্ষেত্রে।

সময়ের সঙ্গে রংধনু পতাকার বিভিন্ন সংস্করণও তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রোগ্রেস প্রাইড ফ্ল্যাগে অতিরিক্ত রং ও নকশার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মানুষ এবং বর্ণগতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতীকটি স্থির থাকেনি; সম্প্রদায়ের ভেতরে আরও বেশি মানুষকে দৃশ্যমান করার চেষ্টার সঙ্গে এর নকশাতেও পরিবর্তন এসেছে।এক কথায় রংধনু পতাকার ইতিহাস কেবল একটি নকশা তৈরির কাহিনি নয়। এটি এমন এক সময়ের স্মারক, যখন একটি সম্প্রদায় নিজেদের পরিচয় ও অধিকারকে দৃশ্যমান করার জন্য নতুন প্রতীক খুঁজছিল। প্রকৃতির সাত রঙের রংধনু আর পতাকার ছয় রঙের রেখা এক জিনিস নয়, কিন্তু দুটির মধ্যেই রয়েছে বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য। সেই বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সমান মর্যাদার দাবি জানানোই রংধনু পতাকাকে আজও তাৎপর্যপূর্ণ করে রেখেছে।

রংধনু কেন সমকামিতার প্রতীক, কীভাবে হলো?

প্রকাশের সময় : ০৫:৪৪:০৭ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৯ অক্টোবর ২০২৬

ফিচার ডেস্কঃ বৃষ্টির পর আকাশে সাত রঙের রংধনু দেখা গেলে প্রকৃতির সৌন্দর্যে মুগ্ধ হন অনেকেই। কিন্তু এই রংধনুই যখন ছয়টি রঙের পতাকায় ধরা দেয়, তখন তা হয়ে ওঠে একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের পরিচয়, অধিকার ও আত্মমর্যাদার প্রতীক। বিশ্বজুড়ে এলজিবিটি বা সমকামী সম্প্রদায়ের মানুষ রংধনু পতাকাকে নিজেদের অস্তিত্ব, বৈচিত্র্য এবং সমান অধিকারের দাবির সঙ্গে যুক্ত করেন। কিন্তু প্রকৃতির এই রঙিন দৃশ্য কীভাবে সমকামিতা ও এলজিবিটি আন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠলো?

এর উত্তর লুকিয়ে রয়েছে ১৯৭০-এর দশকের আমেরিকায়, যখন সমকামী ও অন্যান্য যৌন সংখ্যালঘু মানুষের অধিকার আদায়ের আন্দোলন নতুন পরিচয় ও ঐক্যের প্রতীক খুঁজছিল।

রংধনু পতাকার সূচনা কীভাবে?

১৯৭৮ সালে আমেরিকার সান ফ্রান্সিসকো শহরে শিল্পী ও অধিকারকর্মী গিলবার্ট বেকার একটি নতুন পতাকার নকশা তৈরি করেন। সমকামী অধিকারকর্মী ও রাজনীতিবিদ হার্ভে মিল্কসহ আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা এমন একটি প্রতীক চেয়েছিলেন, যা এই সম্প্রদায়ের বৈচিত্র্য ও ঐক্যকে তুলে ধরবে। এর আগে বিভিন্ন প্রতীক ব্যবহৃত হলেও রংধনুর মতো উজ্জ্বল ও ইতিবাচক একটি নকশা নতুন পরিচয়ের সম্ভাবনা তৈরি করে। বেকারের পাশাপাশি লিন সেগারব্লম, জেমস ম্যাকনামারা এবং আরও অনেক স্বেচ্ছাসেবী পতাকা তৈরিতে অবদান রাখেন।১৯৭৮ সালের ২৫ জুন সান ফ্রান্সিসকোর গে ফ্রিডম ডে উদযাপনে প্রথম রংধনু পতাকা উড়ানো হয়। পতাকাটি তখন আজকের মতো ছয় রঙের ছিল না; তাতে ছিল আটটি রঙের আলাদা শেড। প্রতিটি রঙের সঙ্গে যুক্ত ছিল একটি বিশেষ তাৎপর্য। এভাবেই রংধনু ধীরে ধীরে এলজিবিটি আন্দোলনের পরিচিত প্রতীকে পরিণত হতে শুরু করে।

আট রঙের পতাকা থেকে ছয় রঙে এলো কীভাবে?

প্রথম রংধনু পতাকায় আটটি রঙের প্রত্যেকটির জন্য আলাদা অর্থ নির্ধারণ করেছিলেন বেকার। সেগুলো ছিল গোলাপি যৌনতা, লাল জীবন, কমলা সুস্থ হয়ে ওঠা, হলুদ সূর্যের আলো, সবুজ প্রকৃতি, ফিরোজা শিল্প ও জাদু, নীল প্রশান্তি এবং বেগুনি আত্মার প্রতীক।

কিন্তু পতাকাটির প্রথম নকশা বেশিদিন একই রকম থাকেনি। গোলাপি রঙের কাপড় সহজে পাওয়া যাচ্ছিল না বলে সেই রংটি বাদ দেওয়া হয়। পরে পতাকাটিকে সমান ভাগে সাজানোর সুবিধার্থে ফিরোজা রংটিও সরিয়ে দেওয়া হয়। এভাবেই আট রঙের পতাকা ছয় রঙের রূপ পায়। বর্তমানে পরিচিত পতাকায় রয়েছে লাল, কমলা, হলুদ, সবুজ, নীল ও বেগুনি রঙের ছয়টি অনুভূমিক রেখা।

রংধনুই কেন বেছে নেওয়া হয়েছিল?

রংধনুর সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, আলাদা আলাদা রং একসঙ্গে মিলেও নিজেদের স্বাতন্ত্র্য বজায় রাখে। এই বৈশিষ্ট্যকেই বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্যের প্রতীক হিসেবে দেখা যায়। সমাজে মানুষের যৌন অভিমুখিতা, লিঙ্গপরিচয় ও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা এক রকম নয়। সেই ভিন্নতাকে স্বীকার করে সবার সমান মর্যাদা ও অধিকারের দাবিই রংধনু পতাকার অন্যতম প্রধান বার্তা।

বেকারের ভাবনায় রংধনু ছিল আশার প্রতীকও। এটি কোনো একটি গোষ্ঠীর একমাত্র পরিচয় নয়; বরং নানা পরিচয়ের মানুষের সম্মিলিত উপস্থিতিকে তুলে ধরতে পারে। ফলে এমন একটি প্রতীক তৈরি হয়, যা ভাষা বা দেশের সীমানা পেরিয়ে সহজেই মানুষের কাছে পৌঁছাতে পারে।

এখানে মনে রাখা দরকার, রংধনু সব সময় বা সব জায়গায় এলজিবিটি সম্প্রদায়ের প্রতীক ছিল না। প্রকৃতি, আশা ও নতুন শুরুর প্রতীক হিসেবেও রংধনুর ব্যবহার রয়েছে। তবে ১৯৭০-এর দশকের অধিকার আন্দোলনের পর রংধনু পতাকা এলজিবিটি+ বা সমকামী সম্প্রদায়ের সঙ্গে বিশেষভাবে যুক্ত হয়ে যায়।

আজকের দিনে রংধনু পতাকার তাৎপর্য কী?

বর্তমানে রংধনু পতাকা শুধু সমকামী মানুষের পরিচয়ের প্রতীক নয়। লেসবিয়ান, গে, বাইসেক্সুয়াল, ট্রান্সজেন্ডার, কুইয়ারসহ এলজিবিটি+ বা সমকামী সম্প্রদায়ের বিভিন্ন পরিচয়ের মানুষও এই পতাকাকে নিজেদের অধিকার ও সংহতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহার করেন।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে প্রাইড প্যারেড, অধিকার আদায়ের কর্মসূচি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং নানা জনসমাগমে পতাকাটি দেখা যায়। কোথাও এটি নিজের পরিচয় প্রকাশের সাহসকে তুলে ধরে, কোথাও বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের ভাষা হয়ে ওঠে। আবার অনেকের কাছে এটি এমন একটি সমাজের প্রত্যাশার প্রতীক, যেখানে যৌন অভিমুখিতা বা লিঙ্গপরিচয়ের কারণে কাউকে অপমান কিংবা বৈষম্যের শিকার হতে হবে না। কিন্তু সামাজিক, ধর্মীয় এবং শারীরিক সুস্বাস্থ্যের দিক থেকে এটি এখনো বিশ্বের বেশিরভাগ দেশে নিষিদ্ধ। প্রকাশ্যে এ ধরনের কার্যকলাপে শাস্তির বিধানও রয়েছে কিছু ক্ষেত্রে।

সময়ের সঙ্গে রংধনু পতাকার বিভিন্ন সংস্করণও তৈরি হয়েছে। এর মধ্যে প্রোগ্রেস প্রাইড ফ্ল্যাগে অতিরিক্ত রং ও নকশার মাধ্যমে ট্রান্সজেন্ডার মানুষ এবং বর্ণগতভাবে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অন্তর্ভুক্তির বিষয়টি তুলে ধরা হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতীকটি স্থির থাকেনি; সম্প্রদায়ের ভেতরে আরও বেশি মানুষকে দৃশ্যমান করার চেষ্টার সঙ্গে এর নকশাতেও পরিবর্তন এসেছে।এক কথায় রংধনু পতাকার ইতিহাস কেবল একটি নকশা তৈরির কাহিনি নয়। এটি এমন এক সময়ের স্মারক, যখন একটি সম্প্রদায় নিজেদের পরিচয় ও অধিকারকে দৃশ্যমান করার জন্য নতুন প্রতীক খুঁজছিল। প্রকৃতির সাত রঙের রংধনু আর পতাকার ছয় রঙের রেখা এক জিনিস নয়, কিন্তু দুটির মধ্যেই রয়েছে বৈচিত্র্যের সৌন্দর্য। সেই বৈচিত্র্যকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং সমান মর্যাদার দাবি জানানোই রংধনু পতাকাকে আজও তাৎপর্যপূর্ণ করে রেখেছে।