নারী ও শিশু ডেস্কঃ
ডা. মুহাম্মাদ মাহতাব হোসাইন মাজেদ
শিশুর সুস্থভাবে বেড়ে ওঠার জন্য হাড়, জয়েন্ট, পেশি ও অন্যান্য অস্থিসংক্রান্ত অঙ্গের স্বাভাবিক বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাঁটতে শেখা, দৌড়ানো, খেলাধুলা করা এবং দৈনন্দিন কাজ সম্পন্ন করার পেছনে সুস্থ অস্থি ও পেশিতন্ত্রের বড় ভূমিকা রয়েছে। কিন্তু জন্মগত ত্রুটি, অপুষ্টি, সংক্রমণ, আঘাত কিংবা বিভিন্ন রোগের কারণে শিশুদের হাড় ও জয়েন্টে নানা সমস্যা দেখা দিতে পারে। সময়মতো এসব সমস্যা শনাক্ত ও চিকিৎসা করা না হলে শিশুর স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হতে পারে।
প্রতি বছর ১৯ অক্টোবর পালিত হয় বিশ্ব শিশু হাড় ও জয়েন্ট দিবস। শিশুদের অস্থি, জয়েন্ট ও পেশিসংক্রান্ত রোগ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করার গুরুত্ব তুলে ধরাই এ দিবসের অন্যতম উদ্দেশ্য। এ উপলক্ষে শিশুদের হাড় ও জয়েন্টের সুস্থতা রক্ষায় পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের সচেতন ভূমিকা প্রয়োজন।
শিশুদের হাড়, জয়েন্ট, পেশি, লিগামেন্ট ও সংশ্লিষ্ট অঙ্গের যেকোনো রোগ, আঘাত কিংবা বিকাশজনিত অস্বাভাবিকতাকে বিস্তৃতভাবে অস্থি-পেশিতন্ত্রের সমস্যা বলা হয়। এসব সমস্যার কিছু জন্মগত, কিছু পুষ্টির অভাবে সৃষ্টি হয়, আবার কিছু সংক্রমণ, দুর্ঘটনা বা অন্যান্য রোগের কারণে দেখা দেয়।
শিশুর বয়স, শারীরিক বৃদ্ধি, পুষ্টির অবস্থা ও পারিবারিক ইতিহাস অনুযায়ী সমস্যার ধরন ভিন্ন হতে পারে। শিশুদের হাড় ও জয়েন্টের সমস্যার প্রধান কারণ-
ভিটামিন ডি, ক্যালসিয়াম ও ফসফরাসের ঘাটতি হাড়ের স্বাভাবিক গঠন ও শক্তি অর্জনে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। ভিটামিন ডির অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগ হতে পারে, যার ফলে হাড় নরম হয়ে যায় এবং পা বাঁকা হওয়ার মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
কিছু শিশু জন্মগতভাবে হিপ জয়েন্টের অস্বাভাবিকতা, ক্লাবফুট বা পায়ের গঠনগত সমস্যায় আক্রান্ত হতে পারে। এসব ক্ষেত্রে দ্রুত শনাক্তকরণ গুরুত্বপূর্ণ।
ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণ হাড়ে অস্টিওমাইলাইটিস এবং জয়েন্টে সেপটিক আর্থ্রাইটিস সৃষ্টি করতে পারে। এগুলো দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন এমন গুরুতর অবস্থা।
খেলাধুলা, পড়ে যাওয়া, সড়ক দুর্ঘটনা কিংবা অতিরিক্ত চাপের কারণে হাড় ভাঙা, মচকানো ও জয়েন্টে আঘাত লাগতে পারে।
জুভেনাইল ইডিওপ্যাথিক আর্থ্রাইটিসের মতো রোগে শিশুদের জয়েন্টে দীর্ঘস্থায়ী প্রদাহ, ব্যথা ও ফোলাভাব দেখা দিতে পারে।
কিছু জেনেটিক সমস্যা, হরমোনজনিত অসুস্থতা এবং দীর্ঘমেয়াদি রোগ হাড়ের বৃদ্ধি ও বিকাশে প্রভাব ফেলতে পারে।
শিশু সব সময় নিজের ব্যথা বা অসুবিধার কথা স্পষ্ট করে বলতে পারে না। তাই অভিভাবকদের আচরণ ও শারীরিক পরিবর্তনের দিকে নজর রাখা জরুরি।
সব ধরনের পায়ের ব্যথা বা হাঁটুর ব্যথাকে ‘বাড়ন্ত বয়সের ব্যথা’ মনে করা ঠিক নয়। বিশেষ করে এক জায়গায় স্থায়ী ব্যথা, জয়েন্ট ফুলে যাওয়া, জ্বর, খুঁড়িয়ে হাঁটা কিংবা রাতে বারবার ব্যথায় ঘুম ভেঙে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।
ভিটামিন ডি বা ক্যালসিয়ামের ঘাটতিসহ বিভিন্ন কারণে হাড়ের খনিজায়ন ব্যাহত হলে এ রোগ হতে পারে। হাড় নরম হওয়া, পা বাঁকা হওয়া ও বৃদ্ধি ব্যাহত হওয়া এর লক্ষণ।
নিতম্বের জয়েন্টের গঠন স্বাভাবিক না হলে শিশুর হাঁটার সময় সমস্যা হতে পারে। প্রাথমিক পর্যায়ে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসার ফল সাধারণত ভালো হয়।